ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) ২০২৫-২৬ শস্যবছরের (জুলাই-জুন) জন্য প্রথমবারের মতো পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এ সময় বিশ্বব্যাপী রেকর্ড শস্য উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে আইজিসি জানায়, আগামী শস্যবছরে বিশ্বব্যাপী মোট শস্য উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়ে ২৩৬ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এ সময় ভুট্টা, গম ও যবের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
তবে আগামী শস্যবছর সরবরাহ মাত্র ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতেই শস্যের মজুদ কম থাকতে পারে। তাই উৎপাদন বাড়লেও সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ কম।
আইজিসির দেয়া তথ্যানুযায়ী, আগামী শস্যবছর বিশ্বব্যাপী ভুট্টার উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়ে ১২৬ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এ সময় গম উৎপাদন বাড়তে পারে ১ শতাংশ। মোট উৎপাদন পৌঁছতে পারে রেকর্ড ৮০ কোটি ৭০ লাখ টনে।
এছাড়া প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় মজুদ বৃদ্ধির কারণে মোট শস্যের সমাপনী মজুদ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪-২৫ শস্যবছর সমাপনী মজুদ ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টনে নেমে এসেছিল, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আইজিসির প্রথম পূর্বাভাসে ২০২৫-২৬ শস্যবছর বৈশ্বিক সয়াবিনের রেকর্ড ৪২ কোটি ৭০ লাখ টন উৎপাদন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। একই সঙ্গে এ সময় মোট ব্যবহার ও মজুদও আরো বাড়তে পারে।
আইজিসি জানায়, আগামী শস্যবছর মোট বৈশ্বিক সয়াবিন সরবরাহে ব্রাজিলের হিস্যা থাকবে দুই-তৃতীয়াংশ। এছাড়া এ সময় শস্যটির আমদানি-রফতানি ২ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়বে।
বেশ কয়েকদিন ধরেই বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগামী শস্যবছরও উৎপাদন আরো বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বৃদ্ধি ও উন্নত চাষাবাদ প্রযুক্তি ব্যবহার। আইজিসি জানায়, আগামী শস্যবছর বৈশ্বিক চাল উৎপাদন ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, যা এর আগের বছরের তুলনায় ৪০ লাখ টন বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মূল ভোক্তা অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মোট ব্যবহারও বাড়বে। পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার ক্রেতাদের কাছ থেকে চাহিদা বাড়ায় আমদানি-রফতানি ৫ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এছাড়া এ সময় ভারত শীর্ষ রফতানিকারক হিসেবে নিজের অবস্থার ধরে রাখবে।’
এদিকে আইজিসির শস্য ও তেলবীজ মূল্যসূচক ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনের তুলনায় ২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কারণ যব ছাড়া প্রতিটি শস্য ও তেলবীজের দাম মাস ভিত্তিতে কমেছে।
আইজিসি সূচক বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ শতাংশ কমেছে। যার মূল কারণ চালের দামে ২৯ শতাংশ পতন। তবে ভুট্টার দাম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে।